1. dailynarsingdi24@gmail.com : Daily Narsingdi 24 : Rabbi Sarker
  2. ojjalsarker@gmail.com : ডেইলি নরসিংদী ২৪ : ডেইলি নরসিংদী ২৪
     
রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে ৭ দিনে ৮ লাশ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ৩৬৩ বার পঠিত

রাব্বি সরকার : নরসিংদীতে লাশের মিছিলে বাড়ছে প্রত্যেক সপ্তাহে নতুন নতুন সংখ্যা। হত্যাকান্ড, লাশ উদ্ধার, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা সহ নানা ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এসব ঘটনায় স্বজনহারাদের আহাজারিতে প্রিয়জনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে।

০৩ মার্চ থেকে ০৯ মার্চ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ঘটনায় লাশের মিছিলের নানা তথ্য তুলে ধরা হলো। এই ৭ দিনে নরসিংদীতে বিভিন্ন ঘটনায় ৮ জন লাশ হয়েছে।

৩ মার্চ বুধবার শিবপুর উপজেলায় মামুন সরকার (২৫) নামে এক যুবকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  দিনগত রাত ৩ টায় ধানুয়া দাখিল মাদরাসার সামনের সড়ক থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মামুন সরকার শিবপুর চক্রধা গ্রামের আব্দুল আওয়াল বাচ্চুর ছেলে।

নিহতের ভাই মাসুম সরকার জানান, শিবপুর কারীবাড়ির মেলায় যাওয়ার জন্য বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামুন বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত ৩টার দিকে স্থানীয়দের কাছে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের পাশে তার মরদেহ পান। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, নিহতের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাইসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রিহ্যাব সেন্টারেও রাখা হয়েছিল। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

৫ মার্চ শুক্রবার বেলাব উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে উপজেলার বীর বাঘবের গ্রামের টানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো- ওই গ্রামের শাহাদত মিয়ার ছেলে শামিউল ইসলাম ফোয়াদ (৪) ও একই পরিবারের মনির হোসেনের মেয়ে লিজা (৩)। মৃত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ফোয়াদ ও লিজা। পরে দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেলেও শিশু দু’টি বাড়ি না ফেরায় খোঁজ শুরু করে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পানি থেকে লিজার ভাসমান নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর একই পুকুর থেকে নিথর অবস্থায় সামিউলকেও উদ্ধার করা হয়।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন পলাশ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় স্বজনদের কাছে মরদেহ দু’টি হস্তান্তর করা হয়েছে।

৬ মার্চ শনিবার নরসিংদী সদরের বাশাইল রেলগেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে খোরশেদ আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।  খোরশেদ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নরসিংদী সদরে একটি ফ্যাক্টরিতে জিগার সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসিংদীতে থাকতেন খোরশেদ। শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।

৬ মার্চ শনিবার সকালে মনোহরদীতে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের কোনাপাড়া নামক স্থানে ড্রাম ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার বুড্ডা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মামুন (৩০)। তিনি মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে মাছের ব্যবসা করতেন। অপরজন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার সাটিরপাড়া এলাকার আলেয়া বেগম (৬০)। এ ঘটনায় আলামীন (৪০) এবং শহিদুল ইসলাম (৫০) নামে দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকালে মাটি ভর্তি একটি ড্রাম ট্রাক মনোহরদী থেকে বেপরোয়া গতিতে চালাকচরের দিকে যাচ্ছিল। ড্রাম ট্রাকটি কোণাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মামুন মারা যায় এবং অপর চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এ সময় পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আছিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় আলেয়া বেগমের মৃত্যু হয়। আহত দুজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গেছে। তবে ট্রাকটি শনাক্ত করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

৯ মার্চ মঙ্গলবার মাধবদীর মহিষাসুরা ইউনিয়নের দাইরের পার গ্রামে দুপুর ১২টার দিকে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সোহাগ (৩০) মাধবদীর মহিষাসুরা ইউনিয়নের দাইরের পাড় গ্রামের সানাউল্লাহ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (০২ মার্চ) রাতে সোহাগ নেশা জাতীয় পানীয় পান করে বাড়িতে আসেন। এ সময় সোহাগ তার মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে সোহাগ উত্তেজিত হয়ে তার মাকে মারধর করতে থাকেন। এতে তার বাবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করেন।

পরে ছোট ভাই জহিরুলের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে ছোট ভাই ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সোহাগের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সোহাগকে দেখতে না পেয়ে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে মাধবদী থানা পুলিশ নিহতের ছোট ভাইদের দুই বউকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড় থেকে নিহত সোহাগের লাশ উদ্ধার করে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহটি গুম করে রাখা হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।




নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..







© All rights reserved © 2021 dailynarsingdi24.com ।
Theme Customized By BreakingNews
x
error: